আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ধনকুবের জেফ বেজোস বিয়ে করতে যাচ্ছেন টেলিভিশন উপস্থাপক লরেন সানচেজকে। আর ভেনিসে আয়োজিত কোটি ডলারের এই বিয়ের অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তবে উল্লাসের মাঝেও চলছে প্রতিবাদ। ‘নো স্পেস ফর বেজোস’ লেখা পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে ভেনিস শহরের বিভিন্ন এলাকা।
তিনদিনব্যাপী জমকালো এই বিয়ের আয়োজনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শত শত তারকার, যার তালিকায় আছেন কিম কার্দাশিয়ান, মিক জ্যাগার এবং লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর মতো নাম।

ই-কমার্স সাম্রাজ্য আর মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ৬১ বছর বয়সী বেজোসের নাম বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও, তার হবু স্ত্রী লরেন সানচেজও একসময় ছিলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ আর পরবর্তীতে হয়েছেন একজন দক্ষ হেলিকপ্টার পাইলট এবং প্রযোজক।
মেক্সিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত লরেন সানচেজ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৯ সালে, নিউ মেক্সিকোতে। বড় হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়।
২০১৭ সালে দ্য হলিউড রিপোর্টার–কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছিল না কিছুই। আমার দাদী যখন বাড়ি পরিষ্কার করতেন, আমি তখন তার গাড়ির পেছনে ঘুমাতাম।’
তরুণী বয়সে তিনি একবার এয়ারহোস্টেজ পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ‘ওজন বেশি’ বলে বাদ পড়েন। ‘তখন তাদের ওজনের একটা সীমা ছিল, আর আমি ছিলাম ১২১ পাউন্ড। তারা বলল, ‘তোমার হতে হবে ১১৫।’
এরপর তিনি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা পড়তে শুরু করেন এবং ১৯৯৪ সালে স্নাতক হওয়ার পর সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। প্রথমে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে কাজ করে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পান সানচেজ। তিনি ফক্স স্পোর্টস নেট, এক্সট্রা, গুড ডে এলএ-এর মতো অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছেন।
ফক্স স্পোর্টসে গোয়িং ডিপ নামের একটি অনুষ্ঠানের জন্য তিনি এমি মনোনয়ন পান এবং ১৯৯৯ সালে কেকপ-টিভিতে কাজ করার সময় একটি এমি পুরস্কারও জেতেন। তিনি সো ইউ থিংক ইউ ক্যান ড্যান্স নাচ প্রতিযোগিতার প্রথম উপস্থাপকও ছিলেন। ২০০৩ সালে ওপেন ইউর আইস ম্যাগাজিন তাকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংবাদ উপস্থাপিকা’ আখ্যা দিয়ে প্রচ্ছদে প্রকাশ করে।
৪০ বছর বয়সে তিনি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে লাইসেন্স অর্জন করেন—যা তিনি বলেন, তার পাইলট বাবা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই শুরু করেন। ২০১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্ল্যাক অপস ব্ল্যাক অপস এভিয়েশন-যেটি একটি আকাশচিত্র প্রযোজনা কোম্পানি এবং যেটি নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন ও এমনকি ক্রিস্টোফার নোলানের ডাঙ্কআর্ক সিনেমার জন্য কাজ করেছে।
২০২৪ সালে তিনি একটি শিশুতোষ বই লেখেন—দ্য ফ্লাই হু ফ্লু টু স্পেস-যেখানে তিনি তার ছোটবেলার ডিসলেক্সিয়া-সংক্রান্ত সংগ্রামের গল্প বলেন।

২০২৫ সালে ব্লু অরজিন-এর একটি মিশনে, সানচেজ ১০ মিনিটের একটি মহাকাশ ভ্রমণে অংশ নেন, যেখানে গেইল কিং ও কেটি পেরিও ছিলেন। ফিরে এসে তিনি বলেন, ‘এই পৃথিবীটাকেই রক্ষা করতে হবে, আমাদের আর কোনোটা নেই।’
ব্যক্তিগত জীবন: সানচেজের তিনটি সন্তান রয়েছে—একজন সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় টনি গঞ্জালেজের সঙ্গে, আর দুই সন্তান সাবেক স্বামী হলিউড এজেন্ট প্যাট্রিক হোয়াইটসেলের সঙ্গে। ধারণা করা হয়, ব্ল্যাক অপস এভিয়েশন যখন ব্লু অরজিন-এর জন্য কাজ করছিল, তখনই বেজোসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
২০১৯ সালের শুরুতে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে গুজব ছড়ায়। জানুয়ারিতে বেজোস তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘোষণা করেন, আর কয়েক মাস পর সানচেজও তার স্বামী হোয়াইটসেলকে তালাক দেন। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে তারা বাগদান করেন এবং ইতালির আমালফি উপকূলে বেজোসের প্রমোদতরীতে একটি জমকালো পার্টি দেন। এবার, তাদের বিবাহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভেনিসে, তিন দিনব্যাপী রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
