বিনোদন ডেস্ক: সংসার চালানোর তাগিদে একজন শিল্পী কীভাবে নিজের শিল্পীসত্তা হারিয়ে ফেলেন, সেই গল্প তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনক চাঁপা। বাঁশি বাজানো ছাড়া আর কিছুই না জানা এক ব্যক্তির জীবনের গল্পের মধ্য দিয়ে শিল্পীদের অসহায়ত্ব ও সমাজের স্বার্থপরতার চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ গল্প লেখেন কনক চাঁপা।
গল্পে তিনি এক বাঁশিওয়ালার কথা তুলে ধরেন। তার একটি পা ভাঙা। বাঁশি বাজানো ছাড়া আর কোনো কাজ জানেন না তিনি। এ কারণে মা-বাবার কাছেও প্রায়ই বকুনি শুনতে হয় তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গ এলেও তার পেশার কারণে ভালো সম্বন্ধ আসে না বলে অভিযোগ করেন বাবা।
একসময় বাঁশিওয়ালার বিয়ে হয়। কিন্তু স্ত্রীও তার বাঁশির সুর পছন্দ করেন না। সংসার চালানোর জন্য স্ত্রী, মা-বাবা সবাই তাকে বাজারে বসে বাঁশি বাজিয়ে টাকা উপার্জনের পরামর্শ দেন। বাধ্য হয়ে একদিন বাঁশি ও মাদুর নিয়ে বাজারের বটতলায় বসেন তিনি।
বাঁশির সুর শুনে কেউ কেউ তাকে পয়সা দিতে থাকেন। তবে টাকা নিতে হলে প্রতিবারই বাঁশি বাজানো থামাতে হয়। এক ব্যক্তি তাকে পরামর্শ দেন, পরদিন যেন একটি থালা নিয়ে আসেন। তাহলে বাঁশি না থামিয়েই টাকা নেওয়া যাবে।
বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানালে মা-বাবা ও স্ত্রীও সেই পরামর্শে সম্মতি দেন। কিন্তু বাঁশিওয়ালা এতে বিপন্ন বোধ করেন। কারণ, তিনি নিজেকে ভিক্ষুক মনে করেন না, মনে করেন একজন শিল্পী। শেষ পর্যন্ত সবার চাপে থালা নিয়ে বাজারে বসেন তিনি। বাঁশিতে সুর তোলার সঙ্গে সঙ্গে থালায় পয়সা পড়ার শব্দে তার সুর যেন চাপা পড়ে যায়।
কনক চাঁপা লেখেন, এভাবেই একসময় বাঁশিওয়ালা নিয়মিত থালা হাতে বসা ভিক্ষুকে পরিণত হন। জীবন, সংসার ও দুমুঠো ভাতের দাবির কাছে কত শিল্পী যে ভিক্ষুক, যৌনদাসী, চাটুকার কিংবা রক্ষিতায় পরিণত হন, সেই খবর পৃথিবী রাখে না।
পোস্টের শেষাংশে পৃথিবীর নিষ্ঠুরতা ও স্বার্থপরতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই সংগীতশিল্পী। তার ভাষায়, পৃথিবী কাউকে বুকে নেওয়ার পর মুহূর্তেই তাকে অতল গহ্বরে ফেলে অন্য প্রজন্ম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অথচ পৃথিবী এত বিশাল যে তার এই স্বার্থপরতা সহজে টের পাওয়ার উপায় নেই।
