মুক্তদেশ ডেস্ক: জুলাই বিপ্লবে রাজশাহীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনকে আত্মসমর্পণ করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেয়। এদিন সকালে মামলার গ্রেপ্তার ৪ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার হয়। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন।
তিনি মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, পলাতক আসামিদের তাদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পলাতক আসামিদের হাজিরে জাতীয় দৈনিকে (ইংরেজি ও বাংলা) বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর লিটনসহ ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক ৩৪ আসামির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
পলাতক আসামিদের রয়েছেন—এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, জহিরুল ইসলাম রুবেল, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির, শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক এবং মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলী গুলিতে নিহত হন। একই সময় শাহ মখদুম কলেজের সামনে নিহত হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও ৪৫ জন গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার এলাকা, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় এবং আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
