মুক্তদেশ ডেস্ক: চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ুনান প্রদেশের শিশুয়াংবান্নার মোহান টাউনশিপের কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৫০টি বন্য এশীয় হাতির একটি পাল ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাতিগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রতিদিন ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের হাতিগুলোর অবস্থান সম্পর্কে অবহিত রাখতে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
গুয়াংমিং ডেইলি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ আগস্ট রাত ১১টার দিকে বন্য এশীয় হাতির একটি পাল শিশুয়াংবান্নার মোহান টোল স্টেশনের কাছে একটি গ্রামে ঢুকে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে হাতিগুলোকে দলবদ্ধভাবে গ্রামের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পরে গ্রামবাসীরা কাছাকাছি কৃষিজমির আশপাশেও হাতির পালের চলাচলের চিহ্ন দেখতে পান।
স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তা রোববার গ্লোবাল টাইমসকে জানান, এশীয় হাতিগুলো এখনো মোহান শহর এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। তবে তাদের উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন বা সম্পদের জন্য বড় ধরনের কোনো হুমকি তৈরি করেনি।
এলাকাটিতে এশীয় হাতির দীর্ঘদিনের বিচরণ রয়েছে। ফলে হাতির পাল পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কাজের অংশ।
ওই কর্মকর্তা জানান, হাতিগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রতিদিন ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে আশপাশের বাসিন্দাদের হাতির পালের অবস্থান ও সর্বশেষ গতিবিধি জানানো হচ্ছে। হাতিগুলো এলাকায় চলাচল করার সময় কর্তৃপক্ষ তাদের গতিপথে হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলছে।
হাতির কারণে কোনো সম্পদের ক্ষতি হলে তা পূরণে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাও রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, কোনো বাসিন্দা ক্ষতির শিকার হলে একটি বীমা কোম্পানি ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেবে।
তিনি আরও বলেন, বছরের এই সময়ে বন্য এশীয় হাতি তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে একই সময়ে প্রায় ৫০টি হাতির একটি বিশাল পাল কোনো গ্রামে ঢুকে পড়ার ঘটনা এখনো বেশ বিরল।
২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে হাতির পাল
২০২১ সালে ইয়ুনান প্রদেশজুড়ে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে বেড়ানোর পর বন্য এশীয় হাতির ‘শর্ট-নোজ পরিবার’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক attention বা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির চলতি মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে হাতির পরিবারটি তাদের ঐতিহ্যবাহী আবাসস্থলে ফিরে যায়। তখন ওই পালে ছিল ১৪টি হাতি। চলতি বছর জন্ম নেওয়া দুটি শাবকসহ বর্তমানে এই পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়ে ২১টিতে দাঁড়িয়েছে।
এশীয় হাতি সংরক্ষণে ইয়ুনান প্রদেশে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাতির আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, পরস্পর সংযুক্ত আবাসস্থল তৈরি, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা।
সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রদেশটিতে শিশুয়াংবান্না এশীয় হাতি প্রজনন ও উদ্ধারকেন্দ্রও রয়েছে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেন্দ্রটি ৩০টির বেশি বন্য এশীয় হাতিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন করেছে।
