মুক্তদেশ ডেস্ক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরে চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (এনএফআর) মহাব্যবস্থাপক চেতন কুমার শ্রীবাস্তব।
তিনি বলেন, মালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথ উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রেল করিডর। কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্বে প্রস্তাবিত তৃতীয় লাইনের পাশাপাশি এবার চতুর্থ লাইনেরও সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া টিনমাই ঘাট থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-লাইন ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শ্রীবাস্তব বলেন, অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই রেল করিডরের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে পুরো রেল করিডরের চেহারাই বদলে যাবে এবং এলাকাটিও আরো পরিকল্পিতভাবে উন্নত হবে।
‘চিকেনস নেক’ হলো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরবঙ্গের প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার চওড়া এবং ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূখণ্ড। এর ওপর পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের যাতায়াত নির্ভরশীল। এই করিডোরের পাশাপাশি বারসোই সেকশনে লাইন দ্বিগুণ করা এবং কাটিহার বিভাগে ব্যাপক অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এদিকে বারসই অংশে রেললাইন দ্বিগুণ করার কাজও চলছে বলে জানান এনএফআর মহাব্যবস্থাপক। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে কাটিহার ডিভিশনের বিভিন্ন এলাকায় রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজও চলছে।
এনএফআরের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন যোগাযোগ সহজ করতে জোগবানি, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে লোকাল ট্রেন এবং গুয়াহাটির বাইরে তিনসুকিয়া ও আগরতলা পর্যন্ত দ্রুতগতির ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এনএফআর নেটওয়ার্কের শতভাগ বিদ্যুতায়ন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
