বরিশাল: প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর মারধর, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রধান গেটসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ সময় ওই ছাত্রীর মুঠোফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মুসা। পরে ওই ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। সে সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে মুসাকে মারধর করা হয়। এরপর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় তাদের গাড়ি থামিয়ে মারধর করা হয়েছে।
অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, বিভাগের এক জুনিয়র ছাত্রীকে র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেন ইংরেজি বিভাগের মুসা। ওই ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তাকে আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী মারামারির জন্য এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মূল ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে সে বিষয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা যেতো।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন,‘দুই পক্ষকে থামানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
