মুক্তদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি সাধারণত একসঙ্গে বা কাছাকাছি সময়ে ঘোষণা করা হয়। সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে ঢাবি শাখাকেও নতুনভাবে সাজানো হয়।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা হতে পারে।
বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩-১৪ সেশন থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান ও গাজী মোহাম্মদ আল-আমিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসানকে সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া ২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান এবং আলমগীর হোসেন আলম আলোচনায় রয়েছেন।
২০১৫-১৬ সেশন থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয়, আবিদুল ইসলাম খান এবং ২০১৬-১৭ সেশন থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান এবং শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।
২০১৭-১৮ সেশন থেকে আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল্লাহ সাইফ আলোচনায় রয়েছেন।
ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো— মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। নেতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে একাধারে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বই আমাদের প্রত্যাশা।’
এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্কমুক্ত, নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে এবারের কমিটিতে বিগত সময়ের মতো গ্রুপভিত্তিক কমিটি হচ্ছে না বলেই দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তাই কে পাচ্ছেন নতুন নেতৃত্ব তা এখনো ধোঁয়াশা। তাই নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
