চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৭ জন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে চার জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দশ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম।
শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ইউএনও ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় দশ জনের অধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পুরোনো একটি জাহাজ কাটার কাজ চলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হন। পরে সহকর্মী, স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ কাটার কাজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো জাহাজের ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বা বাষ্পের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। জাহাজ কাটার আগে সেটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, ট্যাংক ও পাইপলাইন পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে এর আগেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা, ‘গ্যাস ফ্রি’ সনদ, শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে শুধু বিস্ফোরণের কারণ নয়, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি সর্বশেষ কী ধরনের পণ্য বা জ্বালানি বহন করেছিল, ইয়ার্ডে আনার পর কী ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, কাটিংয়ের অনুমোদন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কিনা, এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে নিহত ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সীতাকুণ্ডের শিপব্রেকিং শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বারবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানি এ শিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর তাই শুধু দায় নির্ধারণ নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হয়েছে।
