মুক্তদেশ ডেস্ক: স্পেনের ছিটমহল সেউতায় উদ্ভূত অভিবাসন সংকট ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা নিরসনে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী একযোগে সেউতায় প্রবেশ করেন। এ ঘটনার পর ইইউর বহিঃসীমান্ত সুরক্ষিত করা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ চিঠি দেওয়া হয়েছে। ২২ জন ইইউ নেতার স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, অবৈধ প্রবেশ সম্ভব—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়লে তা ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। এটি অভিবাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং যৌথ নীতির ওপর আস্থা নষ্ট করবে।
চিঠিটি ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও বেলজিয়ামের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।
সীমান্ত পারাপারের এই আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৭ জনে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ জুলাই সেউতায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে ফিরে গেছেন।
এদিকে এই সংকটকে কেন্দ্র করে ইইউর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়েছে স্পেন। এ ছাড়া ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স ও পর্তুগাল তাদের সীমান্তে তল্লাশি জোরদারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে দেওয়া পৃথক এক চিঠিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্প্যানিশ সরকার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। ফলে ইউরোপের দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঢল আটকানো সম্ভব হয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেউতার পরিস্থিতি এখন প্রায় স্বাভাবিক। প্রায় সব অভিবাসী এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়েছে। জলপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেখানে প্রতিবন্ধক নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
