ধর্মডেস্ক: মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবনের নানা সময়ে কেউ জেনে, আবার কেউ অজান্তে এমন কাজ করে ফেলেন, যা ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। অনেকেই কোনো পাপের পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং তওবা করেন। তবে পরে দুর্বলতার কারণে আবারও একই ভুলে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে একই গুনাহ বারবার হলে কি বারবার তওবা করা যায়?
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে, গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হওয়া উচিত নয়। বরং ভুল বুঝতে পারার পর আন্তরিকভাবে তওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসার চেষ্টা করতে হবে।
গুনাহকে সাধারণভাবে দুই ভাগে ভাগ করা হয় সগিরা বা ছোট গুনাহ এবং কবিরা বা বড় গুনাহ। বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে ছোটখাটো গুনাহের ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বড় গুনাহের ক্ষেত্রে আন্তরিক তওবার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের খাঁটি তওবার আহ্বান জানিয়েছেন। সুরা আত-তাহরিমের ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিনদের আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের পাপ মোচন করে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারেন।
একই ভুল হলে আবারও তওবা করতে হবে
ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ তওবা করার পর অনিচ্ছাকৃতভাবে আবার একই গুনাহে জড়িয়ে পড়লে তার জন্য তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। বরং নতুন করে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আল্লাহর অন্যতম গুণবাচক নাম ‘তাওয়াব’। এর অর্থ যিনি বারবার তওবা কবুল করেন। তাই কোনো ব্যক্তি যদি নিজের ভুলের জন্য সত্যিই অনুতপ্ত হন এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করেন, তাহলে বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়।
হাদিসে তওবার গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট ফিরে পেলে যেমন আনন্দিত হন, বান্দার তওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৭০)
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না
আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে ‘আল-আফুউ’ অর্থাৎ ক্ষমাকারী এবং ‘আল-গাফুর’ অর্থাৎ পরম ক্ষমাশীল অন্যতম। এসব নাম মানুষের জন্য আল্লাহর অসীম দয়া ও ক্ষমার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে তওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গুনাহ থেকে সত্যিকার অর্থে ফিরে আসার ইচ্ছা, অনুতাপ এবং ভবিষ্যতে সেই ভুল এড়িয়ে চলার আন্তরিক চেষ্টা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ দুর্বলতার কারণে আবার ভুল করে ফেললে হতাশ না হয়ে পুনরায় নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের নিরাশ না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা জুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়। কারণ আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
তাই কোনো গুনাহ হয়ে গেলে শয়তানের প্ররোচনায় হতাশ হয়ে পড়া নয়; বরং অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই একজন মুমিনের করণীয়। বারবার ভুল হলেও তওবার দরজা খোলা থাকে তবে সেই সঙ্গে গুনাহ থেকে দূরে থাকার আন্তরিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে।
