মুক্তদেশ ডেস্ক:
জর্ডানে অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাস পরও মার্কিন বাহিনীতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটানোয় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেল। সূত্র আল–জাজিরা
ওই হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণঘাতী ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা সামনে এনেছে। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক বিমান হামলার পরও একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা এখনো ধরে রেখেছে ইরান।
এ বিষয়ে ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’ নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের গবেষক জেনিফার কাভানাফ বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো বেশ শক্তিশালী। সম্ভবত রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের এ হামলাগুলো আরও বেশি নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট হয়ে উঠছে। পেন্টাগন যেমন দাবি করেছিল, ইরান যুদ্ধ করার ক্ষমতা হারিয়েছে, বাস্তবতা তেমন নয়।
অরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটি
মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও সেগুলোর দুর্বল পরিকাঠামোর কারণেই মূলত ইরান এখনো এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের নিশানা বানাতে পারছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ এ মন্তব্য করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছেন।
এ সেনাদের অনেকেই অবস্থান করছেন আধা স্থায়ী কিছু ব্যারাকে। এগুলো মূলত রকেট, মর্টার বা দেশীয় প্রযুক্তির বোমার (আইইডি) আঘাত সামলানোর মতো করে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে ভারী যুদ্ধাস্ত্র বহনকারী নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এগুলোর নেই। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট আঘাত মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ ডেকে আনছে। চলমান এ যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা এখন ১৮।
মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বোকা বানাচ্ছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ইরান দিন দিন উন্নত করে তোলা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহরের ওপর নির্ভর করছে। আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, মার্কিন বাহিনীর ‘প্যাট্রিয়ট’ সারফেস–টু–এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান এ কৌশল নিয়েছে।
ইরান এমন কিছু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং সশস্ত্র ড্রোন তৈরি করেছে, যা ভিন্ন ভিন্ন গতি ও ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে যখন তারা নকল লক্ষ্যবস্তু ও ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা উৎক্ষেপণকেন্দ্র ব্যবহার করে, তখন মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে ক্রিগ বলেন, ‘ধেয়ে আসা অধিকাংশ অস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হলেও প্রতিরক্ষা ঢাল ভেদ করে সামান্য কয়েকটি অস্ত্র ভেতরে ঢুকে পড়লেই তা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটাতে পারে।’
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান মনে করেন, যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোর তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা করার ক্ষেত্রে ইরান ‘অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য’ নিয়ে মাঠে নেমেছে।
