মুুক্তদেশ ডেস্ক: দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ডিপ্লোমেটিক (কূটনৈতিক) সদিচ্ছা, সব ধরনের সদিচ্ছার প্রয়োজন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করব, ভারত সরকার শেখ হাসিনাসহ যে সকল আসামি ওখানে আছে, বাংলাদেশে যাদের বিচার হয়েছে এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সরকার থেকে আমরা যে বারবার তাদের সাথে যোগাযোগ করছি, আমরা চিঠি দিচ্ছি, তারা সেগুলোর বিষয়ে সাড়া দেবে এবং তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।’
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে অন্যান্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলে মনে করছেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক তো সম্পর্কের জায়গায় থাকবেই এবং একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা বহুমাত্রিক হয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকবে। আমাদের এক্সচেঞ্জ থাকবে। আমাদের সংলাপ চলমান থাকবে, যা চলমান আছে।’
বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামের দিল্লি সফরের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আপনারা দেখবেন যে বিমসটেকের একটা বৈঠকে আমাদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সফর করছেন। তো এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া।’
শেখ হাসিনার রায় কার্যকর করাকে বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্র ও ইতিহাসের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এই জুলাই মাসে এটা বলতেই হবে, যারা রক্ত দিয়েছে, যারা মারা গেছে, যারা আহত অবস্থায় আছে, তাদের পরিবারের জন্য একটা ক্লোজার দরকার। তারাও তো দেখতে চায় যে যারা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে খুন করেছে, তাদের ছেলেমেয়েরা আহত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে, হসপিটালে আছে…তাদের বিচারটা হচ্ছে।
‘তো সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার খুবই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে এবং আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনা হোক,’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু সাজা হয়ে গেছে, সেহেতু একজন আসামির আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের আর কোনো সুযোগ নাই। সুতরাং তিনি যখনই বাংলাদেশে আসবেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। এটাই আইনসম্মত হবে।’
প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা কিন্তু এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী, আমাদের কমিউনিকেশন যেটা ইন্টেরিম থেকে শুরু হয়েছে, যেমন হাসিনার মতো আসামি, যেমন হাদি হত্যার আসামি, এরা যে ভারতে আছে, হাদি হত্যার আসামি জেলখানায় আছে, কোনো স্ট্যাটাসে নাই। হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতে আছে, কোনো স্ট্যাটাসে নাই। তারা কীভাবে ফেরত আসবে, সেটা যদি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আসে, তাহলে এটার আইনগত নিয়ম আছে এবং ডিপ্লোমেটিক কিছু নর্মসও আছে। এই দুটো ফলো করে হয়তো উনি ফেরত আসবে, যদি আসে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে অ্যারেস্ট করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশে নতুন সফরের কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের কাজ নিয়ে বহু ব্যস্ত আছেন। মাত্রই দুটি দেশ অত্যন্ত সফলভাবে সফর করে এসছেন। পর্যায়ক্রমে সব দেশের সঙ্গে সফর বিনিময় হবে।
