মুক্তদেশ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই রিয়াদ ও ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ফোনে কথা বলেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক চলাচল এবং চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগ নিয়ে সৌদি নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন।সূত্র : আরব নিউজ
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক জোরদার করার উপায় পর্যালোচনা করেছেন। তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়েও মতবিনিময় করেছেন।
যুবরাজ ও ট্রাম্প সামুদ্রিক নৌচলাচল সুরক্ষিত রাখা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
এসপিএ জানিয়েছে, এর পাশাপাশি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, যেখানে তারা উভয়েই অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে অব্যাহত সমন্বয় ও আলোচনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পর এই ফোনালাপের ঘটনা সামনে আসল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে সর্বশেষ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কারগুলোতে তেহরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নেয়, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
পুনরায় শুরু হওয়া এই সহিংসতা ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় ফিরে আসার জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বানকে আরও তীব্র করেছে।
মিশর ও কাতার উভয় পক্ষকে সংলাপ পুনরায় শুরু করতে এবং একটি বৃহত্তর নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তান সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।
ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, যদিও তিনি ঘোষণা করেছেন যে সর্বশেষ হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
সৌদি আরব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ট্রানজিট করিডোর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ধারাবাহিকভাবে সংযম, সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
