মুক্তদেশ ডেস্ক: টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল মিসর। শেষ বত্রিশের ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
মিসরের হয়ে চারজনই সফলভাবে শট নেন। এর মধ্যে মোহাম্মদ সালাহ অসাধারণ কৌশলে বলটি জালের মাঝখান দিয়ে পাঠান। শেষ শটে হোসাম আবদেলমাগুইদ গোল করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়।
টাইব্রেকারের ঠিক আগে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পোপোভিচ গোলরক্ষকের পরিবর্তন করেন। তিনি শুরুর একাদশের গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে তুলে অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ানকে মাঠে নামান। ৩৪ বছর বয়সী রায়ানের এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে ১০৫তম ম্যাচ। অথচ মাত্র ২২ বছর বয়সী বিচ নিজের ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ম্যাচেই একাধিক দারুণ সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন।
ম্যাচে মিসরের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল ১৩তম আত্মঘাতী গোল, যা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে হওয়া ১২টি আত্মঘাতী গোলের আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে দেয়।
আত্মঘাতী গোলের কয়েক মিনিট আগে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যমাঠের খেলোয়াড় কনর মেটকালফের সঙ্গে বলের দখল নিতে গিয়ে সংঘর্ষে মাঠে পড়ে যান হানি। সম্ভাব্য মাথার আঘাতের আশঙ্কায় সতীর্থরা দ্রুত চিকিৎসকদের ডাকেন। কয়েক মিনিট চিকিৎসা দেওয়ার পরও তাকে মাঠে খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও চিকিৎসাকর্মীরা স্ট্রেচার নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন, সেটি ব্যবহার করতে হয়নি।
এর আগে গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন হানি।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুর গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবারই প্রথম খেলতে নেমেছিল আফ্রিকার দেশটি। অন্যদিকে তৃতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে খেলেও প্রথম জয়ের আশা পূরণ হলো না অস্ট্রেলিয়ার।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল ব্যবধান গড়তে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মিসরের খেলোয়াড়েরা ছিলেন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও নিখুঁত।
ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ সালাহ বলেন, ‘জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে আমি দায়িত্ব অনুভব করছিলাম। শেষ মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এভাবে শট নেব। জানি না, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না। তাই এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম।’
ঐতিহাসিক জয় নিয়ে সালাহ আরও বলেন, ‘এটি ইতিহাস। ম্যাচের আগে ছেলেদের বলেছিলাম, জীবনে খেলার জন্য এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারে না।’
এটি মিসরের চতুর্থ বিশ্বকাপ আসর। ১৯৩৪ সালে শেষ ষোলোতে হাঙ্গেরির কাছে হারের পর এবার প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয়ের ইতিহাস গড়ল তারা। পরবর্তী ম্যাচে মিসর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার বিজয়ী দলের।
