মুক্তদেশ ডেস্ক: একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্স, অন্যদিকে দীর্ঘ ৩২ মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন—দুইয়ে মিলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রাখল সেলেসাওরা। ৬৪ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে ব্রাজিল যেন আজ কেবল ম্যাচ জেতেনি, ফিরে পেয়েছে তাদের চেনা ছন্দ আর হারিয়ে যাওয়া জাদু।
মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটিশ ডিফেন্ডার ম্যাককেনার ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন তরুণ রায়ান, আর তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই এক গোলেই ২০০২ বিশ্বকাপের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়লেন ভিনি। ২১ মিনিটে তাঁর আরেকটি গোল ভিএআর রিভিউতে বাতিল হলেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের মাপা ক্রসে চমৎকার হেডে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ভিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর চতুর্থ গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের ম্যাকটমিনের বিপজ্জনক হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকার। ৫২ মিনিটে ভিনি হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া করার ঠিক পরের মিনিটেই গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় ‘নেইমার, নেইমার’ গর্জন। গ্যালারির সেই চিৎকার যেন ব্রাজিলের আক্রমণকে আরও ধারালো করে তোলে। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে কাসেমিরোর পাস থেকে ব্রুনো গিমারেস হয়ে বল পান মাথিয়াস কুনিয়া। ডান প্রান্ত দিয়ে আচমকা বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলকিপারকে বোকা বানান তিনি। আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড ব্যবধান নিয়ে যান ৩-০ তে।
এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যার জন্য বিশ্ব চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলেন ভক্তরা। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের দীর্ঘ লড়াই পেরিয়ে প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে পা রাখলেন এই মহাতারকা। যদিও তেমন কিছু করার সুযোগ হয়নি।
ম্যাচ শেষ হতেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে ব্রাজিল। ‘সি’ ৭ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে পা রেখেছে সেলেসাওরা।
