গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের এক সভাপতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহত সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি। আহত সালাউদ্দিন শিবির কর্মী বলে জানা গেছে। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।
এর মাত্র ১০ মিনিট পর, বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন চৌমাথায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও কর্মী সালাউদ্দিন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ১০-১২ জন তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। এ সময় সাইফুল ইসলাম এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে গলায় ও শরীরে উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল ইসলামকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, আহত সালাউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বোনারপাড়ায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান (মাহবুব আলম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।
বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাউয়ুম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং অপরাধীদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
