মুক্তদেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার করা থানায় এজাহার দায়েরের জেরে কয়েকদিনের টানটান উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। আগের ঘটনার জেরে স্থানীয় এক এনজিও কর্মীকে ‘ছাত্রলীগ আখ্যা’ দিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় মা নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন (৫৫) একই এলাকার ছব্বির আহমদের স্ত্রী। ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের ছেলে এস এম ইমরান ওরফে আব্দুর রহমান (৩২)।
ভুক্তভোগী এস এম ইমরান জানান, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয় টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ছাত্রদলের গ্রাফিতির নিচে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে তাকে ( এসএম ইমরান ) ১৩ নম্বর আসামি করা হয়। এরপর থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের ইন্ধনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই পুলিশ কারও না কারও বাড়িতে অভিযান অব্যাহত রাখে। এতে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দেয়। গত বুধবার থেকে পরপর ৩ দিন তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে।
নিহত নারীর ছেলে অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাতে ইমরান বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের স্থানীয় টাইপালং স্টেশনে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার বন্ধু ও ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা হলে দুইজনে আলাপ করছিলেন। এসময় ৭/৮ জন ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মী তাদের দেখতে পেয়ে অতর্কিত মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মা, স্ত্রী ও ছোট বোন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। এসময় তাদেরকে মারধর করে হামলাকারীরা।
এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর ও লাঠির আঘাতে তার মা ছৈয়দা খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে ইমরান বলেন, ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিকদার ওরফে মিজান সিকদারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ নিরপরাধ লোকজনকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগে অনেককে আসামি করে মামলা বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসান এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ওই নারীকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
