মুক্তদেশ ডেস্ক :ইরানের তথাকথিত ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ।
সূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনা যখন অচলাবস্থায় রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ওয়াশিংটন এই বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানান্তরে জড়িত ছিল, যা ইরানের সামরিক কার্যক্রম ও কথিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ ব্যবহৃত হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে কৌশলে বিপুল অর্থ লেনদেন করে আসছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা তেহরানকে আঞ্চলিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দিয়ে আসছিল।
ওয়াশিংটনের ধারণা, এই অর্থপ্রবাহ বন্ধ করা গেলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং তাদের সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম দুর্বল হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের অর্থনৈতিক কাঠামোয় চাপ সৃষ্টি করাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে কার্যকর হলো, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। একদিকে তেহরান যুদ্ধের অবসানে বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় ইরানকে নমনীয় করতে বাধ্য করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধের পথ বেছে নিয়েছে। তবে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য নতুন নয় এবং তারা নিজেদের নীতি থেকে সরে আসবে না।
সামগ্রিকভাবে, এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-তৎপরতা ও জাহাজ জব্দের ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, তেহরান তাদের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে এ ধরনের অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। এখন দেখার বিষয়, ১ মে’র সময়সীমার আগে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্য সমঝোতার পথে কতটা প্রভাব ফেলে।
