ধর্ম ডেস্ক: ওমরাহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। তবে শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ যদি নিজে ওমরাহ পালন করতে অক্ষম হন, তাহলে তার পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করার বিধান সম্পর্কে ইসলামে বিশেষ আলোচনা রয়েছে।
ইসলামের ফিকহশাস্ত্র মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসে বলা হয়েছে,
হে আল্লাহর রসুল, আমার পিতা একেবারে বৃদ্ধ। তিনি হজ ও ওমরাহ করার শক্তি রাখেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার পিতার পক্ষ থেকে তুমি হজ ও ওমরাহ করো। (তিরমিজি ৮৫২)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জীবিত বা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ওমরাহ করা যায়। একইসঙ্গে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেন,
যে কোনো নেক আমল সম্পাদন করে যদি তার সওয়াব জীবিত বা মৃতের জন্য দান করা হয়, তবে তা বৈধ এবং উপকারে আসে। তবে এক্ষেত্রে, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করাকেই বেশি ফজিলতপূর্ণ মনে করা হয়।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে এসেছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী বিদ্যা, এবং সৎ সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (মুসলিম ১৬৩১)
এ হাদিসে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করাকেই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও অন্য নেক আমল তার জন্য দান করা যায়, তবে দোয়া করার গুরুত্ব এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।
দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া মতে, জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ইহরাম বাঁধার সময় যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হচ্ছে, তার জন্য নিয়ত করতে হবে এবং তালবিয়াও তার পক্ষ থেকে পড়তে হবে।
করাচির জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার ফতোয়া বিভাগ অনুযায়ী, ইসলামে বদলি হজের স্পষ্ট বিধান থাকলেও ওমরাহ করার ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশনা নেই। তবে নিজের পক্ষ থেকে ওমরাহ করে এর সওয়াব যে কাউকে পৌঁছানো সম্ভব।
বদলি ওমরাহ করার বিধান ইসলামে বৈধ এবং এটি মৃত ও জীবিত উভয়ের জন্যই করা যায়। তবে শরিয়াহ মোতাবেক সঠিক নিয়ম ও নিয়ত অনুযায়ী এটি পালন করতে হবে। পাশাপাশি, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে।
