মুক্তদেশ ডেস্ক:ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ব্যাপক বিমান হামলা বা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র এক সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই নিজেদের অত্যাধুনিক ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী (প্রিসিশন) অস্ত্রের মজুত নিয়ে সংকটে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পেন্টাগন যে হারে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করছে, তাতে ওয়াশিংটন আর মাত্র ‘কয়েক দিনের’ মধ্যেই কোন লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আগে রক্ষা করা হবে—তা নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এই ব্যাপক হামলা মার্কিন কমান্ডারদের নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করছে—ইরান কত দ্রুত তাদের নিজস্ব গোলাবারুদ শেষ করবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো এখনও বাকি।” তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বলছে, ইতিমধ্যে প্যাট্রিয়ট এবং থাড (THAAD)-এর মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শত শত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি নেতা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক টমাহক ক্রুজ মিসাইলও ছোড়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হাজার হাজার ড্রোন এবং শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।
কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া রিয়াদ ও কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। অস্ত্রের এই দ্রুত ঘাটতি ওয়াশিংটনকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমিত মজুত নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
