মুক্তদেশে ডেস্ক: যুদ্ধকে ইরানিরা যতটা না ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় আত্মসমর্পণকে—এমন ধারণার প্রমাণ ইতিহাসের নানা বাঁকে পাওয়া যায়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সাম্প্রতিক সংঘাতের আগেও ইরান তাদের ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ এড়ানোর কোনো আপস করেনি বলে বিশ্লেষকদের মত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক Quincy Institute for Responsible Statecraft-এর সহ–প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক Trita Parsi কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর বিশ্বাস—ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশল ছিল যত বেশি সম্ভব জ্যেষ্ঠ নেতাকে টার্গেট করা, যতক্ষণ না কেউ আত্মসমর্পণে রাজি হয়। তবে তাঁর মতে, ‘এটি ছিল একটি ভুল হিসাব।’
পারসি বলেন, ‘Donald Trump ভেবেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরী পাঠালে ইরান যথেষ্ট ভীত হবে এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য হবে। কিন্তু তিনি বোঝেননি যে, এই নির্দিষ্ট ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণকেই বেশি ভয় পায়।’
তাঁর ব্যাখ্যায়, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী বিশ্বাস করে তারা যুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে; কিন্তু আত্মসমর্পণ করলে তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। তাঁর ভাষায়, কেউ যদি আত্মসমর্পণে রাজি না হয়, ‘তাহলে শুধু নেতৃত্বের পর নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া নয়, কার্যত পুরো দেশকেই ধ্বংস করে দেওয়ার প্রয়োজন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেও জানে না এমন কৌশল বাস্তবায়নে কত সময় লাগতে পারে, কিংবা আদৌ তা সম্ভব কি না। আর সেই সময়ের মধ্যে ইরানের লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন সেনা, বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা—যাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
