এম. হাসান: বর্তমানে প্রতিদিনই নতুন উদ্যোক্তারা আত্মপ্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের (ঝসধষষ ইঁংরহবংং অফসরহরংঃৎধঃরড়হ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৬ লক্ষ নতুন ব্যবসা শুরু হয়। অর্থনীতি যখন অস্থির বা মন্দার দিকে থাকে, তখনই মানুষ বেশি করে ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন।এ সময়ে অনেক আইডিয়া এবং উদ্দীপনা তৈরি হয়। মানুষ উৎসাহিত হন, কিন্তু বাস্তবে খুব কম সংখ্যক মানুষই প্রকৃতপক্ষে এগিয়ে যান। অনেকেই শুরুতেই আটকে পড়েন, কারণ তারা উদ্যোক্তামূলকভাবে দিশাহীন। তারা সময়, টাকা কিংবা তথ্য না থাকাকে বড় সমস্যা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑএগুলো অনেক সময় অজুহাত মাত্র। অনেকেই লক্ষ্য ঠিক রাখলেও, তীর খুঁজে পান না। তবে আপনার ক্ষেত্রেও এমন না হওয়া সম্ভব, যদি আপনি কিছু নির্দিষ্ট ইঙ্গিত লক্ষ্য করেন, যা আপনার উদ্যোক্তামূলক উদ্দেশ্য চিনতে সাহায্য করতে পারে।
নিজেকে প্রশ্ন করুন:
আপনি কি কখনো গভীর রাতে জেগে উঠে এমন একটি চিন্তা নিয়ে ভাবছেন যা কিছুতেই মাথা থেকে যাচ্ছে না? আপনি কি বারবার নিজেকে এমন আলোচনায় জড়াতে দেখেছেন, যেখানে আপনি একটি নির্দিষ্ট ধারণা, কনসেপ্ট বা ব্যবসার কথা বলছেন এবং থামতেই পারছেন না? আপনি কি মাঝেমধ্যে স্বপ্নের মতো উদ্যোক্তামূলক চিন্তায় হারিয়ে যান, তারপর হঠাৎ বাস্তবে ফিরে আসেন? কিংবা আপনি কি হতাশ বোধ করেন যখন বাস্তবে ফিরে আসেন? আপনি যে বিষয়টি নিয়ে বারবার আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে কথা বলেন, আর যেটি শুনে লোকজন বলে, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আমরা বুঝেছি, আর না…’এই জিনিসটাই হলো আবেগ (ঢ়ধংংরড়হ)। আপনি কি বারবার একটি নির্দিষ্ট আইডিয়া বা কনসেপ্ট নিয়ে কথা বলেন, যা থামাতে পারেন না? আপনি কি মাঝে মাঝে নিজেকে কোনো ব্যবসায়িক স্বপ্নে হারিয়ে যেতে দেখেন এবং বাস্তবতায় ফিরে হতাশ হন? যদি এসব প্রশ্নের উত্তর হয় “হ্যাঁ”, তাহলে বুঝে নিন আপনি আবেগ (ঢ়ধংংরড়হ) খুঁজে পেয়েছেন। আপনি তীরটা খুঁজে পেয়েছেন।
একটি অনুশীলন:
ভাবুন তো, যদি আপনি আপনার ব্যবসার একটি ছবি মানিব্যাগে রাখতেন, তাহলে সেটা কেমন হতো? আপনি এটি সম্পর্কে অন্যদের কী বলতেন? আপনার ব্যবসার কোন দিকটি নিয়ে আপনি এতটা গর্বিত হতেন যে, আপনি তা সম্পূর্ণ অচেনা লোকদের সঙ্গেও শেয়ার করতেন?ভেবে দেখুন, আপনার কাছে ইতিমধ্যেই এমন কিছু আছে যা আপনি ভুলতে পারেন না, যেটি আপনি বারবার ভাবেন, বলেন, স্বপ্ন দেখেন। আপনি অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। ভাবুন তো, এই চিন্তা, কথা, এবং স্বপ্নগুলোই এক সময় রূপ নেবে পণ্য ও সেবায়, বিক্রয় পরিকল্পনায়, এবং মার্কেটিং-এ। কেমন লাগছে শুরুটা? আপনার মানিব্যাগে থাকা ব্যবসাটি হয়তো অন্যদের কাছে অদ্ভুত শোনাবে, কিন্তু ঠিক এইরকম আবেগ ও স্পৃহা নিয়েই আপনাকে আপনার ভাবনা শেয়ার করতে হবে সম্ভাব্য অংশীদার, বিনিয়োগকারী, এবং গ্রাহকদের সঙ্গে।
বাজিমাত :
অনেক উদ্যোক্তা শুরু করতে পারেন না, কারণ তারা ১০০% টাকা, ধারণা, সময় বা সম্পদ না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এটি একদমই ভুল। এতে শুধু সময় এবং উদ্যম অপচয় হয়। সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো Ñ পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং নিয়মিত পদক্ষেপ নিন, বাকিগুলো আস্তে আস্তে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। এটা অনেকটা এমন যে, আপনি হাঁটতে যাবেন আর আপনার পায়ের নিচে রাস্তা তৈরি হতে থাকবে। ভাবুন তো, যখন আপনি স্কুল পাস করেছিলেন, তখন কি আপনি দুনিয়া সম্পর্কে সবকিছু জানতেন? আমরা সবাই ভাবতে ভালোবাসি যে, জানতাম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কলেজ শুরু করার সময় বা একটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ও আপনি সব জানতেন না। আপনি শুধু যেটুকু জানার দরকার, সেটুকু জানতেন শুরু করার জন্য। আর বাকি শেখার সুযোগ এসেছে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। উদ্যোক্তার দৃষ্টিভঙ্গিও এমন Ñ এটা অনেকটা সেই মানিব্যাগের ছবি বা রাস্তার মতো। আপনি হয়তো এটা পুরোটা দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু এতটাই বিশ্বাস করেন যে, আপনি পরবর্তী পদক্ষেপটা নিয়ে ফেলেন। এখন যেহেতু আপনি জানেন কোথায় যেতে চান, এবার জানুন কীভাবে পৌঁছাবেন।
পদক্ষেপ নিন:
পরিকল্পনা তৈরি করুন: প্রতিদিন সকালে এবং রাতে একটি কাজের তালিকা করুন – যা করবেন এবং যা করেছেন। যখন আপনি আপনার ভাবনায় অনুপ্রাণিত থাকবেন, তখন পরিকল্পনা, সময় নির্ধারণ ও মিটিং হবে আপনার রণকৌশলের অংশ।
নিজের দুর্বল দিক চিহ্নিত করুন: আমরা সবাই ভাবি, আমরা সব জানি বা একা একাই সব করতে পারি। কিন্তু বাস্তবে, আপনার শক্তি শনাক্ত করুন ও তা মজবুত করুন, এবং দুর্বলতাগুলোতে সহায়তা নিন – একজন মেন্টর খুঁজে নিন, কোচিং নিন, বা কোনো ব্যবসা সহায়তা কেন্দ্র খুঁজুন।
ঘুমান: সফল হওয়ার জন্য সঠিক বিশ্রাম দরকার। টিভি দেখার সময় ব্যয় না করে নিজের একটি বাস্তব উদ্যোক্তা রিয়েলিটি শো তৈরি করুন, যেটা ছাড়া আপনি থাকতে পারবেন না।
সঠিক পথে চলুন: সফলতার জন্য পথ ঠিক করুন, স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করুন এবং শুরু করে দিন।ব্যর্থতা থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান: ভুলগুলো হচ্ছে শেখার সুযোগ। গুরুজনেরা বলেন, ‘শিক্ষাটা নাও, কষ্টটা ছেড়ে দাও।’
অনেক উদ্যোক্তা বিষয়টি উল্টোভাবে নেন Ñ তারা শিক্ষা ফেলে রেখে, ব্যর্থতার কষ্ট নিয়ে সারাদিন চিন্তা করেন। ব্যথতার শোকে কাতর হয়ে পড়েন। কিন্তু মনে রাখবেন Ñএকটি হোঁচট মানেই পড়ে যাওয়া না, আর একটি পড়ে যাওয়া মানেই ব্যর্থতা না। আপনি কেবল তখনই ব্যর্থ, যখন আপনি হাল ছাড়েন। শিক্ষাগ্রহণযোগ্য থাকুন, মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুন, এবং পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকুন।
অনুপ্রেরণার মূল বার্তাগুলো (কবু ঞধশবধধিুং):
নিশানা ও তীর: কীভাবে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোক্তামূলক লক্ষ্য শনাক্ত করবেন এবং পদক্ষেপ নেবেন
প্ল্যান করুন: প্রতিদিনের শুরু ও শেষ হোক কাজের তালিকা দিয়ে Ñকী করবেন, আর কী করেছেন।
নিজেকে জানুন: শক্তির জায়গা চিহ্নিত করে তা বাড়ান, এবং দুর্বলতা পূরণে মেন্টর, কোচ বা রোল মডেলের সাহায্য নিন।
ঘুমান: ঘুমান – বিশ্রামেই রয়েছে প্রেরণার বীজ। বিশ্রামেই সাফল্যের সূচনা। কারণ স্স্থুতা ও ঘুম আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। একটু অনুসন্ধান করলে আপনার চারপাশে এম লোক পেয়ে যাবেন। যাদের বিলিয়ন ডলার আছে কিন্তু রাতে ঘুমের ওষুধ ছাড়া ঘুমাতে পারেন না। আবার শারীরিকভাবে অসুস্থ। মনে রাখবেন আপনার ভালোভাবে ঘুম না হরে কিংবা শারীরিকভাবে সুস্থ না হলে পৃথিবীর কোনও কিছুই আপনার ভালো লাগবে না।
সঠিক পথে চলুন: অন্য কারও স্বপ্ন নয়, নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করুন।
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন: ভুল মানেই ব্যর্থতা নয়Ñ শিক্ষা নিন, কষ্টটা ছেড়ে দিন। আপনি কেবল তখনই ব্যর্থ, যখন হাল ছাড়েন!
