ক্রীড়া ডেস্ক: হিসেবটা এমন ছিল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল জিততে হলে চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬৯ রান। আর এই ম্যাচ নাটকীয় কায়দায় জিততে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৮ উইকেট। সকালের সেশনে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু সবকিছু একপেশে করে দেন আগের দিন সেঞ্চুরি পাওয়া এইডেন মার্করাম।
২০৭ বলে তার ১৩৬ রানের ইনিংসটা দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিল ৫ উইকেটের জয় এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। ১৩৬ রান করে মার্করাম যখন আউট হলেন তখন ম্যাচ জিততে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। এই চ্যাম্পিয়নশিপের টানা আট টেস্ট জিতে ট্রফি নিয়ে বাড়ি ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সকালের সেশনে দুই উইকেট হারানো ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো বাধা ছাড়াই জিতে নিয়েছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। এই প্রথমবারের মতো তারা টেস্টের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসরের ট্রফিটা জিতলো। সন্দেহতীতভাবে জয়ের নায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার এইডেন মার্করাম। তৃতীয়দিনেই দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়টা তিনিই মুলত সহজ করে দেন লর্ডসের কঠিন উইকেটে। চতুর্থদিন সেই তিনিই আবার ফিনিসিংও টানলেন। হাফসেঞ্চুরি করে তাকে অনবদ্য সহায়তা দেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেন্ডা বাভুমা। ৫ উইকেটের জয় নিয়ে আনন্দে ভাসছে এখন গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা।
লর্ডসে উভয় দলের প্রথম ইনিংসে ব্যাটাররা খাবি খায়। অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ২১২ রানে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৩৮ রানে। প্রথম ইনিংসে বড় লিড পায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়ে তারা। আটকে যায় মাত্র ২০৭ রানে। ম্যাচ জিততে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ইনিংসে প্রয়োজন দাড়ায় ২৮২ রানের। লর্ডসের চ্যালেঞ্জিং উইকেটে শেষ ইনিংসে এই টার্গেটকে সামান্য বলার উপায় ছিল না। কিন্তু মার্করাম ও টেন্ডা বাভুমা যে খেললেন অসামান্য ইনিংস!
এই জয়ে টেস্ট ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন নতুন শক্তি। আইসিসির বড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল একসময়ে ‘চোকার্স’ তকমা পাওয়া প্রোটিয়ারা।
প্রথম দুই দিনে যেখানে উইকেট পড়েছিল ২৮টি, সেখানে তৃতীয় দিনে মাত্র চারটি উইকেট হারানোই বোঝায় লর্ডসের পিচ কতটা বদলে গিয়েছে। সহজ পিচের সুবিধা নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা রীতিমতো শাসন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের। স্টার্ক, হেজলউড, কামিন্স, কেউই কিছু করে উঠতে পারেননি। এমনকি ট্রেভিস হেডের মতো পার্ট-টাইম বোলারকেও ব্যবহার করতে বাধ্য হয় অজিরা, তাতেও ফল মেলেনি।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২৮২ রানের লক্ষ্য অনেকটাই কঠিন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে মার্করাম-বাভুমার জুটি সব হিসেব উলটে দেয়। পিচ সহজ হওয়া এবং আকাশে রোদ উঠায় ব্যাটারদের পক্ষে ছিল পরিবেশ। স্টার্ক প্রথম ইনিংসের মতো ছন্দে না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা নির্বিঘ্নে এগিয়ে যায় জয়ের পথে।
দুর্দান্ত এই সাফল্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘চোকার্স’ বদনামটাও ঘুঁচল!
