ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশে উৎপাদিত শুঁটকির ৮৭ শতাংশ কীটনাশকমুক্ত এবং ভোক্তার জন্য নিরাপদ হলেও ১৩ শতাংশ শুঁটকিতে কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৪০৫টি শুঁটকির নমুনা বিশ্লেষণ করে এক গবেষণায় এ ফলাফল পাওয়া গেছে।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) আয়োজিত এক সেমিনারে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিংড়ি গবেষণাকেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম। যদিও সেমিনারে জানানো হয় যে, রান্না বা পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর এসব কীটনাশকের প্রভাব অনেকাংশে কমে যায়।
মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, দুবলার চর, চলনবিল ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত শুঁটকির মধ্যে কিছু নমুনায় কীটনাশকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর ব্যবহার আইনত অপরাধ।
শুঁটকিতে কীটনাশক ব্যবহার দেশের সার্বিক চিত্র নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত উল্লেখ করে বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া বলেন, প্রয়োজনে আরও বৃহৎ পরিসরে
গবেষণা চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে ভেজালের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে এবং শুঁটকিতে কীটনাশক ব্যবহার অবশ্যই ভেজালের আওতায় পড়বে।
বিএফএসএর সদস্য মোহাম্মদ শোয়েব জানান, সম্প্রতি বাসেল কনভেনশনে ১০টি কীটনাশক নিষিদ্ধের প্রস্তাব এসেছে, যার মধ্যে দুটি বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়। শুঁটকি প্রক্রিয়ায় সচেতনতা কম থাকায় এসব রাসায়নিক ব্যবহৃত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় ছুরি শুঁটকি (চট্টগ্রামে ৫৭ শতাংশ, কক্সবাজারে ৫৫ শতাংশ)। চলনবিলে টাকি শুঁটকি (৩৭ শতাংশ) এবং দুবলার চরে লইট্ট্যা শুঁটকি (৪৬ শতাংশ) সবচেয়ে জনপ্রিয়। গড় ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন কক্সবাজারে একজন মানুষ ১৫.৭২ গ্রাম, চট্টগ্রামে ১৪.৪৮ গ্রাম, সুনামগঞ্জে ৭.৮৪ গ্রাম, চলনবিলে ৯.৫৬ গ্রাম এবং দুবলার চরে ১২.২২ গ্রাম শুঁটকি খেয়ে থাকেন। গবেষণায় ‘এনডোসালফান সালফেট’ নামক কীটনাশক সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ডেলড্রিন, হেপটাচলোর ইপোক্সিসাইট ও বেটা-এনডোসালফানও কিছু নমুনায় ধরা পড়ে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার নাজমুল বারী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকও ভবিষ্যতের গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। শুঁটকি শুকাতে সূর্যের আলো ব্যবহার না করে মেকানিক্যাল ড্রায়িং ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফএসএ সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা এবং শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।